
এজেকেএস ফাউন্ডেশন এর সৌহার্দ্য নেটওয়ার্ক একটি বেসরকারি উন্নয়ন মূলক প্লাটফর্ম যা সম অংশীদারিত্বের ও সম অংশগ্রহণের মাধ্যমে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বিশেষ করে সমাজের অসহায়, নির্যাতিত ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে যাচ্ছে । সংগঠনটি সমমনা কিছু ফাউন্ডেশনের পারস্পারিক সহযোগীতার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান করে স্থানীয়ভাবেই সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এই সকল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এজেকেএস ফাউন্ডেশন এর সৌহার্দ্য নেটওয়ার্ক ও সমমনা কিছু ফাউন্ডেশন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিপি) Integrated Rural Development Program (IRDP) শীর্ষক একটি প্রকল্পে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। প্রকল্পটি উত্তরবঙ্গের রংপুর বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হবে যার বাস্তবায়ন কাল হবে ৫ বৎসর (১লা জুলাই ২০২৩-জুন ২০২৮)।
প্রকল্পের লক্ষ্য-
সমন্বিত গ্রামাীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি শিক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকায়নের উন্নয়ন, নারী অধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণ এবং নারীর প্রতি সহিংস্রতা হ্রাসের লক্ষ্যে একটি কার্যকর পরিবেশ ও পরিচিতি সৃষ্টি করা।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য-
১. ভূমিহীন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবিকা ও আর্থ সামাজিক উন্নয়ন।
২. ভূমিহীন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবিকা উন্নয়নের জন্য শস্য বহুমুখী করণ, পুষ্টির উন্নয়ন, আয় বৃদ্ধিকরণ কর্মকান্ড বাস্তবায়ন (হাঁস, মুরগী পালন, মাছ চাষ, কৃষি জাত পণ্য প্রসেস) ক্ষুদ্র ফার্ম স্থাপন ও বসতবাড়ীতে সবজি বাগান স্থাপন।
৩. প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকদের নিকট সম্প্রসারণ কর্মকান্ড জোরদার করা, কৃষক এবং সম্প্রসারণবিদদের উন্নয়ন।
৪. কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করা।
৫. সাধারন দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে সরাসরি সহযোগিতা প্রদান করা।
৬. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
৭. নারী অধিকার, জেন্ডার এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত আইন কানুন বিষয়ে সমাজে সচেতনতা ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা।
৮. ব্যাপক জনসচেতনতায় এ্যাড ও মিডিয়া এ্যাডভোকেসী।
৯. তৃনমূল পর্যায় থেকে বিভিন্ন শিল্পী, কলা কূশলী তৈরী করে তাদের সরাসরি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১০. সকল স্তরে জনগণের সমন্বয়ে সামাজিক বেষ্টনী অধিক শক্তিশালী করা।
১১. নারী নির্যাতন প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং সহিংস্রতা হ্রাসে ও নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা ও তাদের এ বিষয়ে কার্যকর করা।
১২. বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্তা নারীদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করা।
১৩. ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতামূলক জ্ঞান বৃদ্ধি করা।
১৪. শিশু শ্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় অধি-পরামর্শ ও উদ্যোগ গ্রহন করা।
১৫. মাদক ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
১৬. প্রতিবন্ধি শিশু শিক্ষা ও প্রতিবন্ধিতা উন্নয়ন করা।
১৭. কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। ১৮. আইআরডিপি ইউনিয়ন হাসপাতাল নির্মাণ
প্রকল্প সমাপ্তিতে অর্জন
(ক) কৃষি ভিত্তিক উন্নয়ন ও কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণর অনূকুল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
(খ) প্রযুক্তি প্রদর্শণীর মাধ্যমে জনগণ উদ্বুদ্ধ হবে।
(গ) দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
(ঘ) কমিউনিটি অবকাঠামো তৈরীর ফলে সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
(ঙ) মনোনীত কৃষক দলে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।
(চ) পরিবেশ উন্নয়নে জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরী হবে।
জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল রাসেল, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক
বিভাগীয় ব্যবস্থাপকসমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিপি). রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়, রংপুর